Thursday, November 1, 2012


‘সম্রাটের চেয়ে কিছু কম সম্রাটত্ব’...

তন্ময় বীর

 

সুনীল বলেছিলেন জীবনানন্দ তাঁর প্রিয় কবি, কমলকুমার প্রিয় কথাকার, অথচ ‘এদের দুজনের কোনো লেখার সঙ্গেই আমার কোনো মিল নেই’ কিন্তু চমকে উঠতে হয় যখন জীবনানন্দে পাই- ‘সে শরীর ঈশ্বরের চেয়ে কিছু কম গরীয়ান’ এর মতো শব্দবন্ধ বা ‘তুমি তো জানো না কিছু – না জানিলে,/ আমার সকল গান তবুও তোমায় লক্ষ্য করে’র সমান্তরালে সুনীলউচ্চারণ - ‘এ কবিতা মধ্যরাত্রে তোমার নিভৃত মুখ লক্ষ্য করে’‘নির্জন স্বাক্ষর’-এর অন্তরালে লীন হয়ে আছে নীরার জন্মবীজ। আজীবন শব্দ অক্ষর কমা ড্যাশ রেফ ও র-এর ফুটকি সমেত শরগতি জিবনানন্দীয় ম্লানমৌনতা থেকে কীভাবে জন্মঋণ পেয়েছে তা সবিশেষ অনুসন্ধেয়। বঙ্কিম রবীন্দ্রনাথকে আপাত অস্বীকারের ছলে উত্তরাধিকারের ভিতে নবনির্মাণে যে সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে সেখানে তিনি তাঁর নিজের বিশেষণেই সম্রাটের মতো। নিজস্বতার শর্তেই তিনি দখলদারি পেয়েছিলেন; যাপনের অকৃত্রিমত্বে জোর অর্জন করেছিলেন ভাষা-সংস্কৃতির অভিভাবকত্বের। এই যে সেদিন লিখলেন - 'অধিকাংশ বাঙালি মূর্খ, তাদের শিল্প-সাহিত্যের কোনও বোধই নেই। অর্ধেকের বেশি বাঙালি তো এখনও পড়তে-লিখতেই জানে না।’ একথা অন্য কেউ বললে, এরকম চপেটাঘাতের মতো বললে কী প্রতিক্রিয়া হতো ভাবা যায়! মাথা নিচু করে মেনে নিতে হল কেননা সুনীল বলেছেন। সেই বস্তুবাদী সুনীল, যিনি নির্দ্বিধায় সপাটে বলে দেন বহুনন্দিত ইংরাজি রচনার সারবত্তাহীনতার কথা, না-পড়া বই ‘পড়েছি’ বলা মিথ্যাভাষণের সগর্বিত স্বীকারোক্তি করা সুনীল। যাঁর জীবনের অন্যতম প্রিয় উক্তি-

O, throw away the worser part of it,
And live the purer with the other half

এখন আমাদের সুনীল-সাম্রাজ্যের সেই purer part-কেই আবিষ্কার করার দায়।