Wednesday, December 25, 2013

পৌষমেলা

সরে যাচ্ছে  ঝাপটার ঢাল
দামাল চপল নদ পদানত
ক্রমশ শালবীথি মহুয়ার ঢল
তাল, সাঁওতাল সরলতা সন্নিকট
এঁটেলে দৃঢ়তা মুহ্যমান
পদতলে খোয়াই সটান

সোনাঝরা ক্যালিপ্টাস মর্মর
ঢেকে দেয় শহুরে সংলাপ
চিতল হরিণ নাচ চিরন্তন
কোপাই-এর স্রোতে মেশে
ছাইভস্মে কঙ্কালীর চিতা
একতারা বেজে ওঠে রিন্‌ রিন্‌
জনতার জটিল জঙ্গলে

ছুটে যাচ্ছ এই সব টানে
ফেলে যাচ্ছ ছেড়ে যাচ্ছ
দূর ছাই আপদ জঞ্জাল

যেন আর ফেরা নেই
যেন কেউ কিছু নেই
ধুলোমুঠি সোনা হবে

অমল রাত্রির টানে
ছাতিমের নিবিড় কোল
সূর্যপ্রতীম সেই তার বিভা।

Friday, December 6, 2013


ভবিষ্যৎ


করতলে হৃদ্‌পিণ্ড জবাকুসুমসঙ্কাশ
কণ্ঠে মন্ত্র নিয়ে সটান
আঁধারের চিরত্ব চিরে
ঊষার পেছনে ছুটবে সকাল -

ঐ তো শিল্পী তার কান কেটে
অপেক্ষায়
ঐ তো নারী তার স্তন কেটে
সাহস্য
লিঙ্গ উৎসর্গিত হচ্ছে
ধর্ষক নিজেই বেছে নিচ্ছে
অনন্ত সশ্রম কারাবাস
মিথ্যুক জিভে রাখছে
জ্বলন্ত অঙ্গার
সন্ত্রাসী তার বন্দুকের নল
রাখছে সন্তানের মাথায়
নিজস্ব পতাকায় পা রেখে
দাঁড়িয়ে আছে রাজনীতিক
রাজা কন্যাকে তুলে দিচ্ছেন
নিষ্কপর্দক প্রেমিকের হাতে
শিক্ষক নিজের কান
মুলে নিচ্ছে নিজে
ধার্মিকের উত্তরীয় বিসর্জন
হ'ল আঘাটার জলে
আল্লা বললেন    ওঁ
ঈশ্বর বললেল    আল্লা হো আকবর
খ্রিস্ট বললেন    মণি পদ্মে হুঁ
বুদ্ধ বললেল     এদের ক্ষমা কর

জানি না এর পর কী
কার অপেক্ষায় সমাবেশ

অতীতকে জানি
জানি কৃতকর্ম
সজ্ঞানের ভ্রম

অর্ঘ্যগুলি নির্মম
অর্ঘ্যগুলি নিষ্ঠুর
আত্মোৎসর্গে সুন্দর!

জানিনা এর পর কী হবে
ভবিষ্যতে কী আছে অতঃপর
 

 
পূর্ণ হোক

এই তো শাশ্বত জুটি
নীরন্ধ্র অন্ধকার অভিমুখে
রক্তাক্ত গোধূলির লালে
সর্বাঙ্গে সর্বনাশ মেখে
নিশ্চিন্তে গঙ্গাযাত্রায় চলে
 
ওরা জানেও না, দর্শনীয়
দেখার আনন্দে মেতেছে সবাই
বোঝার গভীর সাহস নেই
ধুলো খেলাও ভুলে গেছে, পরিহাস
কারোরই পরিত্রাণ নেই
অজগর ব্যাদানের দিকে সারিবদ্ধ
জোড়ায় জোড়ায়

অন্ধের সঙ্গে খঞ্জ
নুলোর সঙ্গে কবন্ধ
বোবার সঙ্গে বধির
ধার্মিকের সঙ্গে চাটুকার
বুদ্ধিজীবির সঙ্গে নেতা
শিল্পীর সঙ্গে দালাল

জোড়া শালিখের পয়ায়
দিন ভালো যাবে ভেবে
জয়-জোকার মুহুর্মুহু
ধুনোর সুবাস

পুণ্য হোক, পুণ্য হোক
মানবের জল বায়ু
মানুষের বাতাস আকাশ
তর্পণে পবিত্র হোক 
আগামী সকাল




 

Thursday, December 5, 2013


অন্ধই ভরসা

গভীর সন্দিগ্ধবাদী
চতুরস্য শাঠ্যে উত্তম

অথবা,

বিকল্প খুঁজি
প্রয়োজনে চতুর্থ, পঞ্চম

বরং ভালো
যে কোনো সাতে নেই
পাঁচ পা-ও নেই যার

পদক্ষেপে অসাড়
পদচ্যুতি নেই সুতরাং

রং নেই বলে
রংরুট-ও নেই নিশ্চিত

ভারহীন বলহীন সুস্থির
অভিমুখহীন অরেখ

মত নেই মতান্তরও নেই
বিপক্ষের সাথে অযথা

অবিকল্প কুলদেবতা এই হোক
শোয়া বসা  হাসা কাঁদা
সকলই সমান যাঁর
লক্ষ্যপক্ষহীন, ভ্রমহীন
উড়ান না-জানা

খঞ্জের নিরুপ্রদ্রব যষ্ঠি
অন্ধই ভরসা







  

এভাবেই!

তারও তো স্থান কাল আছে
সম্ভাবনার শতাংশ কিছু

পাথর ফাটানো শিকড়
সাধনাসফল জল পাবে কিনা
বধির উপমহাদেশে জন্মনো
নিরম্বু মেয়েটি উত্তর পাবে কিনা
জ্বলন্ত ম'রে গেল যারা
ফালা ফালা হল যার যোনি
 
এখনও যে স্বপ্ন জেগে আছে
সন্ত্রস্ত নগরের চারি ভিতে
হরিৎ শস্যের মাঠে মাঠে
লোহিত জিজ্ঞাসাচিহ্ন

তামসী নিশানা রঙিন
ধর্মান্ধ কুক্কুট, মদমত্ত;
পবিত্রতার সুগন্ধ মাখা
শপথের বাক্যাবলি
মেধাবী প্রবঞ্চনা
উদ্ধত ক্ষমতার দাপ

সবই কী এক পথে
ধুলো আর কাদা
সফেদ কুয়াশা নীল
সগুপ্ত গূঢ় প্রকরণে
সোনা হয়ে যাবে
মিলে চলে যাবে
এক বৈকুন্ঠের দিকে

নিশ্চিত দ্বিধাহীন!

দিবাস্বপ্ন

ভুল যাত্রাও সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেয় ...

আনন্দবারতা
কী খোশবাই তার!
অশ্রু মিশে আছে শিরায় শিরায়

ললাট লিখন না-প'ড়া
যানের আরোহী হাসে
লক্ষ্যে চলে যাবে ঠিক...

রক্তমাখা ধার্মিক
নিশ্চিন্তে ঘুমায়,
অকাতরে ভাষা ভোলে
মাতৃভষার প্রেমিক,
কৃতঘ্ন অবিচারে অম্লান
কৃতজ্ঞতা কুড়ায়

প্রতিশ্রুতি দৃঢ়মুষ্ঠি
ভাষণ, রঙিনের ফোয়ারা

সব ভুল একদিন
মেলে দেবে ডানা
ফুল হবে, প্রজাপতি
কে করিবে মানা

দিবা স্বপ্নে কম্পোজারও ভুলে মারে
শেষ শব্দদুটি.. ' কখনো কখনো '


 

Saturday, November 30, 2013

বিবেচনা
 
সংশোধন ক'রে দেবো
বাক্যের গঠন
বড়ো নির্মম হ'য়ে গেল-
ভাবি,
বলা যেত মৃদুতর আরও
কঠোর পাথর নির্দয়তা
না-দিলেই হ'তো শব্দে ঐ

শান্‌ না দিলেই বরং
অহল্যা অঙ্কুরকাতর আদিমের
রঙে শোভনীয় হ'ত অভিমান

ভাবি তুলে নেবো
কিছু ভার, কিছু দমনীয়
অনির্বাচিত, নিয়ন্ত্রণহীন
কিছু স্ফুলিঙ্গ ক্ষণস্থায়ী

শস্যখেতের কাছে
অপরাধী থেকে যায়
বাঁধভোলা বানভাসী সোঁতা

মাসুলের কাছে
কেন অবিবেচক
অধমর্ণ হবো
 



 

Monday, November 25, 2013

এসো ভুল
 
 
অমার্জনীয় ভুলগুলি
বৃথাই মার্জনীয়। চক্‌চকে
শাণিত করার চেয়ে মার্জনীয়
ভুলে ভরি ভবিষ্য বাগান
 
এসো খুলে রাখি কবচ
এসো তুলে রাখি ঢাল
শিরস্ত্রাণ প্রতিরোধ
 
ন্যুব্জের ক্লেশক্বাথ কান্না
করুণায় ঝকমকিয়ে উঠুক
হিংস্র তরবারির ধারে
নিঠুর চিৎকারের আগায়
 
এসো ভুল মারো
এসো ভুল কাটো
বিদ্ধ করো ক্রুশে
 
মার্জনার হৃদয় থেকে
গড়িয়ে নামুক শুদ্ধতা
ভঁরে যাক মানস সরোবর
 
শিশির অশ্রু মেখে
জেগে উঠুক ভোরের পলাশ

 

Tuesday, November 19, 2013

হোয়াট ইজ আর্ট?
তন্ময় বীর


উৎসর্গপত্র-র দিকে আঙুল দেখিয়ে সুবীরদা বললো, এটা আবার লিখতে হয় নাকি!–

লেখা ছিল “সুরমাকে ভালোবেসে–”

যখন লেখা হচ্ছিল, প্রুফ দেখা চলছিল, বারবার টাইপ করা ছেলেটিকে বোঝাতে হচ্ছিল, এই লেখাটা যাবে সমস্তটা সাদা রেখে একেবারে নিচের থেকে চার লাইন উপরে ডান দিকে, তখন একবারও মনে হয়নি ভাষাটায় সূক্ষ্মতা হারাচ্ছে। লঘু হয়ে যাচ্ছে ‘ভালোবাসার’ ভার। এই প্রথম খচ্‌ করে উঠলো, তাও উদ্বোধনের দিনই। কানে করাতের অস্বস্তি জাগালো কথাগুলো, --“বউকে দিচ্ছ, আবার লিখেও দিচ্ছ ভালোবেসে দিচ্ছ! মাঠে মারলে তো উৎসর্গের আর্ট-টা!” কানের কাছে মাথা এনে অন্তরঙ্গতার ভাব এনেও সকলকে শুনিয়ে বলল, --“বউকে চুমু দিয়ে বলো নাকি এটা কিন্তু ভালোবেসে দিলাম!” “আমরা ঠিক বুঝতে পারি কোনটা চব্বিশ ক্যারেট, সার্টিফিকেট লাগে না।” -- সুচন্দ্রা পাশ থেকে কটাক্ষ হেনে দুল নাচিয়ে সুযোগের সদ্বব্যবহার করল। মানিক’দা বলল, --“ও! এবার বুঝেছি কেন তোমরা ঠোটরঞ্জনী লাগাও।” ঠোটরঞ্জনী কথাটায় হাহাহিহি শুরু হলো। তারপর কথার গাড়ি ছুটল নানান দিকে। কিন্তু মনের মধ্যেটা খিচ্‌ড়ে রইল। কিছুতেই বইপ্রকাশ উপলক্ষ্যে আজকের সব বিল নিজের গ্যাঁট থেকে বার করতে ইচ্ছে করছিল না। কফিহাউস থেকে ফিরতি বাসে ব’সে ব’সে ভাবছিলাম, সত্যি তো, নামের পর শুধু ওই হাইফেনটাই যথেষ্ট ছিল। কন্ডাক্টারকে ভাড়া দিতে ভুলে গেলাম, নামার সময় দুটো কথা শোনালো, ইচ্ছা করে পরের স্টপেজে নামালো... নামিয়ে দিয়ে খালাসিও টিপ্পনী কাটলো।

অন্য দিন হলে হয়তো এসব গায়ে মাখতাম না, ভাবতাম ড্রাইভার-কন্ডাক্টর-এর বেলায় ইংরেজি আর খালাসি-র বেলায় বাংলা কেন! আজ উল্টোটাই হলো, পুরো মেজাজটাই তিরিক্ষে হয়ে গেল। বাড়ি যে আছে, সেটা ভুলেই বাড়িতে ঢুকলাম।



বাড়িতে পা দিতেই শুরু হলো সংসারের বিরুদ্ধে সমস্ত পৃথিবীর ষড়যন্ত্রের কাহিনী। ঝি আসেনি, অবাধ্য সন্তান, অকম্মা শাশুড়ি, গ্যাস নেই, কী আনার কথা ছিল, কী আনিনি, সংসারের প্রতি কর্তার অমনোযোগের সাতকাহন...

ঝন্‌ ঝন্‌ করে উঠল মাথার মধ্যে...

বহির্প্রকাশটাও সেরকম অনিয়ন্ত্রিত রূঢ় সশব্দ হলো। সকলকে সন্ত্রস্ত করে শুয়ে পড়লাম অসহ্য মাথাব্যথা নিয়ে।



ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। রাত অনেকই হবে। খাটের ওপাশ থেকে চাপা ফোঁপানির শব্দে চেতনা এলো। মাথার মধ্যে অস্থিরতাটা বেশ থিতিয়ে এসেছে। নড়লাম না, চুপ ক’রে থাকলাম, তা-ও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ে বার্তা পৌঁছে গেল ঠিক, --“...কুড়ি বছর ঘানি টানছি। আত্মীয়-স্বজন সব পর করে দিয়েছি। বছরে একবার নমো নমো বাইরে যাওয়া, ব্যাস, তারপর তিন’শ ষাট দিন গারদবন্দি। আমি কী নিজের জন্যে বলি, আমি কী একা খাই... ওই সব কাব্যি করা কাউকে তো বাছলেই হতো, কাব্যি পুড়িয়ে যজ্ঞি করতো... কবিতায় ফর্দ লিখতো!”

শব্দব্রহ্ম, আর কথা বাড়ালাম না। একটু গলার আওয়াজ করে সন্ধিপ্রস্তাব দিলাম –

“আবার পাড়া জাগিয়ে জানান দেওয়া হচ্ছে, আমি কতটা খারাপ। ছেলে, শাশুড়ি সকলের সামনে...”

দেখলাম সন্ধি নয় পরাজয়ই শ্রেয়, যেন আকাশকে শোনালাম, “ভুল হয়ে গেছে...”

“ সেটা তো লোকে জানলো না... প্রেমের গপ্প লেখা হয়! বাড়িতে একদিনও তো রসের কণাও ঝরে না বাক্যিতে...”

“ভুল হয়ে গেছে।”

“ভুল হয়ে গেছে বললেই সাত খুন মাপ!”

“দুটো ভুল হয়েছে তাই দু’বার।”

ও পাশের নিস্তব্ধতাই জিজ্ঞাসা চিহ্ন।

বললাম, “নতুন বইটার উৎসর্গপত্রে একটা ভুল...”

...

কাঁধের দাগটা জামায় ঢাকা পড়বে, ঠোঁটের নিচেরটার কার্যকারণ সম্বন্ধ স্থাপনের জন্য সকালে উঠেই দাড়ি কামাতে বসতে হলো। তারপর বেশ মোটা করে বোরোলীন লাগিয়ে বাজার; উৎসর্গপত্র রচনার অভিনন্দনভোজের উপকরণ আনতে। যা আমি কাল আনতে ভুলে গিয়েছিলাম। বই প্রকাশের ব্যতিব্যস্ততায় সিগনালটা ঠিক ডিকোড করতে পারিনি।



তিনদিন পর সেই বিলীয়মান দাগে সযত্নে হাত বোলাতে বোলাতে সুবীরদাকে ফোন করলাম। ওঁকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বললাম, “কালিমাটিতে একটা গল্প বেরোচ্ছে, পড়বেন!”

Thursday, September 26, 2013


রবীন্দ্রনাথ

 তন্ময় বীর

 

বিশ্বাস-এর কথা ভাবা যায়!

আস্থার থাবা গিলে খায়

আজগর গ্রাসে শিকড় বাকড়

পাপ কাকে বলে

ধর্মের কলে দ্বিমুখী করাত

সীমার অসীম  অথবা ওই

অসীমের সীমা বিশ্বপ্রেম

রক্তের নদী কবে মুছে যাবে

তাহরির গাজা ভূমধ্য তীর

শাহবাগ বামিয়ান কাশ্মীর

মধুপবনের সুলগন কবে

 

তুমি একাঘ্নী  অসহায় বাণ

একদিকে ছুঁড়ে দিলে

অন্য প্রান্তে লালিহান ওঠে

 

শঙ্কা শূন্য চিত্তগান

সবল ক্ষমার মহিমা

সুনির্বাচিত ভাষণের জামা

সুধী সকলের গা’য়ে

 

তুমিময় সব শুধুই তোমারই যেন জিত

সশস্ত্র উদ্যত হাতে নিরুপায় ছবি

আরক্ত জিভ সহর্ষ গায় রবিসঙ্গীত

গৃধ্নু জীবের আনন্দগান রবিসঙ্গীত

 

চক্রান্তে ফাঁসে বিজয়ীর চাকা

সব দায় ঋণ নিরীহের ঘাড়ে

অজস্র শাপ প্রতিদিন নির্মম মারে

বুকপিঠকাঁধে তীব্র চাবুক দাগ

 

স্বপ্নসত্য ব্যথাযন্ত্রণাপিপাসায়

তোমাকে অবিশ্বাস করা পাপ

Tuesday, September 24, 2013


মুখবন্ধ
(একটি কাব্যগ্রন্থের মুখবন্ধ)

 
অ্যাল্‌-গ্রাফ্‌ প্রেসের জমিদারি

মাঝে মাঝে ডিক্রিজারি

ভাইরাস পাইক হানাদারি

মাঝে মধ্যে গাপ্‌ হয়ে যায়

যাবৎ লেখা-লেখি

 
তারই মধ্যে সনৎ বাবু

করেন বসে প্রুফদারি

হট্টগোলে দিন কেটে যায়

মাঝে মাঝে কাজের চাপে

জাগরণে রাত কেটে যায়

বেশ তো বসে কাটছিল দিন

হেসে খেলে কষ্টে সৃষ্টে

সুখের দুঃখের হিসাবদারি


তারই মধ্যে কী উৎপাত

বিনা মেঘে বজ্রপাত!

যা হবার তা হবেই হবে

ভবিতব্য কে খণ্ডাবে

‘ভূতের বোঝা কে বইবে

জীবন একটা ঝকমারি’

এসব ভেবে কী কুক্ষণে

আমাদের সেই সনৎ বাবু

লাভ-লোকসানের জাবদা খাতায়

ভাবনাহীন অগ্র পশ্চাৎ

দিলেন লিখে অকস্মাৎ

  ‘আমায় দে মা তবিলদারি!’

 

ঘোর কলি কাল একেই বলে

হাতের লক্ষ্মী পা’য়ে ঠ্যালে


এখন তাঁরে ঠেকায় কে

আমায় অব্দি পাকড়-কে

বলেন, ‘লিখুন মুখবন্ধ’

হায় ঈশ্বর খোদাবন্দ

গোটা একটা কাব্যগ্রন্থ!

সবাই মিলে খুব বকবেন তো

কী দুঃসাহস, বুকের পাটা

পণ্ড করবেন পুজোর কেনা-কাটা!
 

সকলে তাঁর সমবয়সী

ঘুরে বেড়ায় গয়া ও কাশী

পুঁটলি বাঁধছে পুণ্যফল

স্বর্গবাসের লোটাকম্বল

সেসব ফেলে অর্বাচীন

পরপারের ভাবনাহীন

চতুর্দিকে নাতিনাতনি বাড়বাড়ন্ত

মরি মরি একটু যদি লাজ্‌ থাকতো

আর কী কিছু নাম ছিলো না

  ‘ইচ্ছেপূরণ’!

বুড়ো কালের ভীমরতিতে বেশরম্‌

   ম র ণ!
 

হতেই হবে কে লিখেছে

প্রথম পাতে শুভ-ইচ্ছে

   শক্তি মুখো

ওঁকে চিনি, চিরটাকাল বাহির মুখো


বরং আসুন তামুক খাই

বাত বেদনা রাজা উজির

পিঠে পুলি পায়েস সুজির

তলে তলে তল্পি গোটাই

 

সর্বকালেই থাকে, আছে

দুটো-একটা প্রাচীন গাছে

পাতার বাহার বেড়েই চলে

ডালে দোলে রকমারি ফুল

সাদা চুলের মধ্যে বেজায়

কালো রঙের ধারা

বেহিসাবি, এঁরা সৃষ্টিছাড়া


এঁদের কাছে হার মেনেছে

বেবাক বুড়ো লোকের পাড়া

                                                ১৯.০৯.২০১৩