Tuesday, November 18, 2014

শীতযাপন

শীতকাল এসে গেল
ত্বকের যত্নাত্তির কাল
অন্দরবাসী দুই সুপর্ণা
একটি বসন্তবর্ষাশরৎউষ্ণতা চায়
অন্যটি কেবলই হিমের পরশ

সেই সব বালাই, যার কোনো
প্রতিষেধক মিলল না
সেই সব অধোগমন শতাব্দী
পেরিয়ে এসে মহামানবের বাণী
যার কাছে লজ্জা পায়
সেই সব কাদা সহস্র সূর্যাভায় 
এখনো পিচ্ছিল হয়ে আছে

আয়ুর স্থিরতা আজও
এই সুসভ্যতায় পদ্মপত্রনীর
কে কখন ঠুকরে দেয়
আকছার ভেঙে যায় নীড়

পরিশুদ্ধ জলস্পর্শহীন
নিয়ত নিহিত স্নান
এক পাখি জাড্যের বিপরীতে
সুপক্ব স্বাদু পিপ্পল চায় না
শীত চায়, শুধু ঘুম
*       *         * 

হেমন্তকে শীতের সূচনা ভাবা
ভ্রম, তারো আছে নিজস্ব
নিশ্বাস। না-শীত ও উষ্ণ
রমণীয় নির্বেদ। পরিণত মৌন
নিজের নাড়ি ধরে মৃত্যুকে বোঝা
সাংঘাতিক পৌঢ়বিজ্ঞ
কোনও টান নেই, অশ্রু নেই
একে কেউ চায় না
বরং শীতের পরিধি ভেবে
শুকোতে দেয় বিছানা চাদর।
*        *         *

উদ্যত ও নিবৃতের মাঝে
ঐ যে সুফল, নির্বিকার
পরিণতিপ্রজ্ঞানী, ঐ তো হেমন্ত
দ্রুত মরে যেতে হবে, জানে।
তার মরে যাওয়া, বিজ্ঞের ভানে
দেখেও দেখবে না কেউ
নিশ্চলও সমান অংশীদার
সধুতার ছল, তারও হিংসুক
সাধুবাদী ঠোঁট পরিতৃপ্তি পায়
নিরপেক্ষ ভানে, হিংসুক
পিপাসু, গোপনে উৎসুক

প্রকৃত হেমন্ত ঐ সুদৃশ্য
নির্বিকার লোভালোভের
মাঝে সুচয়নী সুফল
*         *            *

যারা শীতকাল ঝুলিয়ে
রাখি চুল থেকে নখ
পা থেকে মাথা, যারা
সত্যিকারের মৃত, বা
বেঁচে থাকি মরে গিয়ে
শীত সেখানে আকর্ষণীয়
আরামদায়ী আলখাল্লা, ঈশ্বরীয়
কখনো ঘুমতে দিইনা উরগের
বিষাক্ত থলিকে নিশ্চুপে
ঘুমের বিজ্ঞাপন সাঁটি সজ্ঞানে
কতদিন আমাদের ছেড়েছে  
কত আত্মীয় আজ দূর দেশবাসী  
*       *         *

দেশটি এমন কোথায় আছে
জননী আমার, ধাত্রী আমার, আমার দেশ
দেশ দেশ নন্দিত করি মন্দ্রিত ভেরী
মাটিতে ঠেকাই মাথা
তবু কোনও হিজিবিজবিজ
বেমক্কা হেসে ওঠে বেরসিক
  দেশে গেলেই লোকেরা হুস্‌ হাস্‌ মরে

এ আমার দেশ নয়, বলে
ক্রমশপ্রসারমান  কবন্ধ ছায়া
উপত্যকায় কুয়াশা চাদর
করতলগত সমুদয় মাতৃক্রোড়
সুন্দর নেই স্বস্তিময়
শবের মতো লাবণ্যবিভায়
সুস্থির মূক শীতার্ত শরীর
*       *         *
  
এবার উল্লাস হোক
পরিচর্যিত হোক ত্বক
ওষ্ঠ অধর শোভনীয়  
নির্লজ্জ লজ্জাবতী গোড়ালি
অন্যকে করুক লজ্জিত
সুডৌল উদ্ধতের মতো
আমাদের উদযাপনও
দর্শনীয় হোক
*       *         *
 
ভীষণ মরে যেতে চাওয়াকে
বাঁ হাতের করতলে রেখে
ডান হাতের রঙিন জলজ নাচন
ভেজাক সমস্ত গ্লোসাইন
সমুগ্ধ  মাখি দারুণ সজীব
বেদনার সুদাম গ্লিসারিন
*       *         *
 
পাখি উড়ে যাক
জেনে যাক বা না জানার ভানে
হেমন্তের তীরে বসে শীতার্ত দেখুক
সুরক্ষিত ক্লীব মনুষ্য কেমন আছে
হিমের স্বচ্ছ ফর্মালিনে ...

    

Wednesday, September 24, 2014

বাংলায় বলি
তন্ময় বীর

সলিডারিটি নয় সংহতি
সলিডারিটি নয় সমর্থন
শারদীয় বাজার ভুলে
যুবক যুবতীর ওই রক্তবমন
চুম্বন রাখি ক্ষত ঠোঁটে 
দৃপ্ত বুকে কাশ ফুল
চোখে তুলো মেঘ
স্পন্দনে স্পন্দন রেখে
ফুলিয়ে পাঁজর ছাতি 
বাংলায় বলি- সংহতি সংহতি
এসো আলিঙ্গন আলিঙ্গন
ব্রহ্মনাদে - সমর্থন সমর্থন

Sunday, August 31, 2014

অমৃতা
তন্ময় বীর

কথা রইলো
দেখা হবে মেঘের মায়ায়
নদীতীর, বিকেল, ঝিলিমিল, আলোয় ছায়ায়

এভাবে আর পুড়বো না
জ্বলবো না এরকম আর

ওয়াদা
মেঘ আনবে পুঞ্জ চিরে
ছায়া আনবে অরণ্যানীর
এই মিথ্যে সব মায়া
বকুনির ফুলঝুরি
প্রত্যাশার গন্‌গনি
অবিমৃষ্য কাঙাল্‌পনা
উপেক্ষার জলে ভাসিয়ে
বজ্রের নির্ভীকতায়
ভিজে তিতবো আনখশির
অনুরাগের উপত্যকায়

আকাঙ্ক্ষা উঁচু
কামাখ্যার চূড়ায় মেঘ
ছায়া তার লুইতের জলে
টান টান মেখলা
তীব্র মাদলের বিহু
কীর্তনের করতাল

অঙ্গীকার
গ’লে যাবো
গণতন্ত্রের দেশে
রঙিন ফানুসের নীচে
এই রিয়ালিজমের ম্যাজিক ও
বাজি রঙের অধিত্যকায়

দ্যাখো তিনিও তাজ্জব!
উবু হয়ে বসে আছেন
ভানুমতীর রং- বেরং
অলীক চিত্রকরের সামনে
দেশে কোনো
কোতোয়াল নেই
কেনানা চৌর্য নেই কোনও

ওই সেই সুন্দরীতমা
উঠে যাচ্ছেন নিরলম্ব, শূন্যে
আকাশে...

তোমার ঝারিতে
উর্বর হবে যাবতীয়
মধ্যাকর্ষণ বাড়বে চন্দ্রপৃষ্ঠে
বসতি হবে, স্বপ্নচাষ হবে

কথা রইল, প্রত্যয়
উঠে যাবো না শূন্যতায়
পুড়ে যাব না নিছক
ভেসে যাবো না অনবলম্ব

দু’হাতের তালুর মেঘে
করলতের মায়ার নীচে
অবিকল্প অপরূপ তাঁবু
মায়াময় জোনাকির আলো
ভিজে যাবো
ভিজে যাবো
তোমাকেও ভেজাবো

নিষাদীয় অপলক তির
চৌচির করবে
কাকে!
কাকে?
যাকে আমরা
কখনও দেখিনি... 

Saturday, May 17, 2014

ন্যাচারাল, অতি স্বাভাবিক


সাইরেন চিল্লাচ্ছে খুব
আলোর ঝিলিকে ধাঁধা
অ্যাম্বুলেন্সের মাথা
উৎসব শেষ হ’ল
কী যেন নির্ণয় হ’ল
তরী ভিড়ে গেল শস্ত্রের আগায়।
অক্সিজেন ঢুকে আছে নলে
জলের লবণ যায় সূচ বেধা
ধমনী শিরায়।

এই তো বিনিময়ে পাওয়া
এই তো দাওয়াই, প্রতিদানে —

বড়ো উৎসব চারিদিকে
ধূমধাম খুব
রঙিন আবির ঝড়
মুখ চেনা ভার।
জরুরি বিভাগে ভিড়
সকলে আসে না, কেউ কেউ
এসে উঠতে পারে...

প্রতিবাদী, নিমকহারাম, বিরোধী
এসবই প্রাপ্য ওদের
শালা—
কত ধানে কত চাল, খাও!
কোন কাছারিতে যাবে, যাও

সব শুনশান, শিশিরের শব্দের মতন
রক্তপাত, আশ্রুপাত হয়।
নীরবতা খান খান করে
সেবা গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স বলে —
তফাৎ যাও, তফাৎ যাও

*
মিথ্যে নয়
মিথ্যে নয়
ঝুটা হ্যায়
এই রাত
এই হতাহত
নিশুতি, নিরস্ত্রের হাহাধ্বনি

যারা খুব ভয়ে ছিল
টিকটিকিতেও চমকাতো
তারা আজ নির্ভয়!
কী আলো এসেছে আহা
জন্মান্ধের চোখে!

*

কে দেখে নিশ্চিত করে?
বাইরে দেখা চোখের আলোয়—
শরীরের এত ‘আপন আলো’
হ্যালো, জ্যোতি এত সকলের
রোদচশমা বিকোচ্ছে ভালো
বিদেশি ছাপের।

*
ছাপ!
ওসব সেকেলে!
টেপো, দাবাও
এই হ’ল যুগের বোতাম।
কেন যে ছাপ্পার তবু
বিকল্প কিছু হল না, হায়!

পশুপাখি, সরীসৃপ, উভচর
বৃক্ষরাজি, ফুল, ফল, লতা শতখানা...
পরিবেশবাদীরা কানা
দেখেও দেখেনা এসব
কত যত্নে সংরক্ষিত আছে
ব্যালট বাগানে, অভয়ের অরণ্যে
তারা নির্বিঘ্নে চরে, বাড়ে
কমপ্লান খায়, হাড় মজবুত করে
পুষ্টিচিন্তাহীন, বিলাসীহাওয়া
লাগে বাহারি চেহারায়।

মায় ধরণীর ক্ষুদ্র এক সংস্করণ
আছে এই নোয়ার নৌকায়!

*
নৌকা নয়, থুড়ি
তরী—
অন্নপূর্ণা, ঈশ্বরী—
দুধভাত, অপ্সরী
যেন তেন একবার
শুধু একবার যেন তরি
সোনার সেঁউতি—

তুফান কত দরিয়ায়!
কত পেশিশক্তি লাগে!
কত দূরদৃষ্টি, ক্রুরদৃষ্টি!
হাওয়া বুঝে পাল তোলা!

     সাধারণ বোঝে না এসব
পাবলিক পাবলিক...

এরা কী বুঝেছে কখনও?
দেখেছে?
ক্ষমতার মরীচিকা
লোভনীয় চিক্‌-চিক্

*
ঠিক ঠিক।
দু’চারটে অ্যাম্বুলেন্স
এভাবে ছুটে যাবে
সমস্ত ভোটের শেষে
কখনও একটু বেশি
কখনও আধিক।
এত বড়ো গণতন্ত্র
এত বড়ো দেশ!

এসব সাধারণ বিষয়
বড়ো ন্যাচারাল


অতি স্বাভাবিক।
   ---